আজ || মঙ্গলবার, ০৯ Jun ২০২৬
 


নীরবেই কেটে গেল মুক্তিযুদ্ধের কোম্পানী কমান্ডার আঙ্গুর তালুকদারের মৃত্যুবার্ষিকী

কে এম মিঠু, গোপালপুর :

নীরবেই কেটে গেল মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুরের সর্বাধিনায়ক ও কোম্পানী কমান্ডার নূর হোসেন আঙ্গুর তালুকদারের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আঙ্গুর তালুকদারের অসামান্য অবদানের কথা স্বীকার করে, সূধীজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দগণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালায় তাঁকে বীর কোম্পানি কমান্ডার, অকুতভয় নির্ভিক সৈনিক ও একজন ত্যাগী পুরুষ নামে সম্ভোধন করলেও, আজ তাঁর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পালকপুত্র শফিকুল ইসলামের একটি মিলাদের আয়োজন ব্যতিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের কোন সংগঠন, রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কোন দল গ্রহন করেনি বিশেষ আয়োজনের।

এ প্রসঙ্গে প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বাণীতোষ চক্রবর্তী বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঙ্গুর তালুকদার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে, পাকহানাদার বাহিনীর হাত থেকে হত্যা, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতন থেকে গোপালপুরবাসীকে মুক্ত করেছিলেন। তিঁনিই প্রথম গোপালপুর থানার প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করেন। কিন্তু আমরা এমন কপাল পোড়া, বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও, আওয়ামীলীগের এই ত্যাগী নেতাকে আমরা বিশেষ দিনেও যথাযথভাবে সম্মান জানাতেও কার্পণ্য করি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সোবহান তুলা জানান, নূর হোসেন আঙ্গুর তালুকদার ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন গোপালপুর-ভূঞাপুরের সর্বাধিনায়ক ও কোম্পানী কমান্ডার। তাঁর জীবন বাজি রাখা অবদানের জন্যই আমরা আজকের এই গোপালপুর পৌরসভা/ উপজেলা পেয়েছি। কিন্তু আজ আফসোস লাগে, তাঁর কবরের পাশেই আমরা গোপালপুরবাসী শহরের যাবতীয় পচাঁ-দূর্গন্ধ ময়লা আবর্জনা ফেলে, তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিদিন আমাদের দীনতা প্রকাশ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয়া রাষ্ট্রের, পৌর কর্তৃপক্ষের তথা আমাদের গোপালপুরবাসীর দায়বদ্ধতা। গোপালপুরবাসীকে যিনি মুক্তির স্বাদ এনে দিয়েছেন, তাঁর কবরকে অসম্মান করে আমরা আর নতুন করে লজ্জিত এবং অকৃতজ্ঞ হতে চাইনা। প্রসাশনসহ কর্তৃপক্ষের শুভদৃষ্টি কামনা করছি, বীরসেনানির এই কবরের সুরক্ষা করে পবিত্রতা রক্ষার।

নূর হোসেন আঙ্গুর তালুকদার :

মহান মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার নূর হোসেন আঙ্গুর তালুকদার ১৯৪৫ সালের ১ আগস্ট গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাশ করেন।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে উন্নত প্রশিক্ষনের জন্য মাইনকার চর হয়ে ঢালু ক্যাম্প ও তুরা পাহারে ট্রেনিং প্রাপ্ত হন। ট্রেনিং শেষে ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর নিকরাইল রানী দিনমনি হাইস্কুলে সত্তুর জন কমান্ডারের মিটিংয়ে কাদেরিয়া বাহিনী প্রধান বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী গোপালপুর থানা আক্রমণ করার জন্য কয়েকজন কোম্পানী কমান্ডারকে নির্দেশ দিলে নূর হোসেন আঙ্গুর তালুকদার কাদেরিয়া বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে ভোলারপাড়া, হেমনগর, সূতী, জগন্নাথ, পিংনা ও ফুলদারপাড়া যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।

নূর হোসেন আঙ্গুর তালুকদার ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর শনিবার গোপালপুর থানা পাক হানাদার মুক্ত হলে শত্রু সেনাদের কাছ থেকে পাওয়া সকল অস্ত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র গ্রহন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে গোপালপুর থানায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু হয়। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা ও সৎ, নির্ভিক ও ত্যাগী পুরুষ।

২০১১ সালে অবিবাহিত অবস্থায় গোপালপুর সদরে নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন এবং গোপালপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মন্তব্য করুন -


Top
error: Content is protected !!